Wednesday, 25 October 2023

শুভ বিজয়া

ঠিক দেখতে দেখতে কটা দিন চলে গেল। একদম হাওয়ার বেগে, হুউউশ্ করে। এতদিনের প্রস্তুতি, আয়োজন, সব শেষ।

তবে এত্ত তাড়াতাড়ি কেন? ধুউউউর!

গঙ্গাবক্ষে প্রতিমা নিরঞ্জন হতেই ঘাটে রব উঠল, "বল দুগ্গা মাই কি", "আসছে বছর আবার হবে" ইত্যাদি, বাঙালির চিরকালিন স্লোগান। 

এবং তারপরেই শুভ বিজয়া জানানোর পালা। বড়দের প্রনাম সমেত। আর সাথে একটা ছোট্ট  আপডেট সোশ্যাল মিডিয়ায়- "সবাইকে শুভ বিজয়ার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। 
(শুভ আর শুভেচ্ছা একই কথা দুবার কেন বলে আজও বুঝলাম না।)

লক্ষ‍্যনীয় বিষয় আমাদের জেনারেশনের বিজয়া ব্যাপারটা নিয়ে মাথাব্যথা কমে যাচ্ছে। সেটা আগের বছরের থেকে কম পোস্ট করাই হোক বা ফেসবুক ইন্সটায়ে কম হইচই। এই কারনেই লক্ষ‍্যনীয় শব্দটা ব্যাবহার করলাম কারন এই একই জেনারেশন মহালয়া থেকে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে যাচ্ছে।

বিজয়ার পরের দিন চেনা এক মিষ্টির দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, এক পাড়ার কাকু জিজ্ঞেস করলেন দোকানদার কে যে বিজয়ার ব্যাবসা কেমন হল। তা দোকানদার হতাশ ভাবে মাথা নাড়ানোয় বললেন "তোদের তো ভাল হলেও খারাপই বলিস।" তা দোকানদার ভদ্রলোকটি তখন প্রত‍্যুত্তরে বললেন যে করোনার পর থেকে বিজয়ার আলাদা তেমন কোনো বিক্রিই নেই। লোকে লোকের বাড়িতে যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছে। সব ওই মেসেজে...।


বাড়ি ফিরতে ফিরতে তাই ভাবছিলাম বাবার শোনানো তাদের সময়ের বিজয়ার গল্প। কিভাবে তারা বন্ধুরা পাড়ার একের পর এক বাড়িতে ঢুকে পরে প্রনাম সেরেই পাত পেড়ে খেতে বসে যেতেন। এবং সব বাড়িতে আয়োজন করাই থাকত।

এসব আমাদের জেনারেশনে ভাবাও যায় না...। সবাই ইন্ট্রোভার্ট না?

আরও শুনতাম বিজয়ার পোস্টকার্ডের ব্যাপারে। দূরে থাকা আত্মীয়স্বজন, বন্ধুদের জন্য থাকত সেই চিঠি। কুশল বিনিময়, বিজয়ার শুভেচ্ছা থেকে ঘরে ফেরার ডাক, সেই চিঠিতে সবই থাকত। কালের নিয়মে চিঠির সাথে হারিয়ে গেছে সেই পোস্টকার্ডও...। 

ভয় লাগে যে প্রানের উৎসবের মধুরয়েন সমাপ্তিটাও না আস্তে আস্তে মুছে যায়.....


বিজয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় যতই থাকুক, লেখাটা যখন বিজয়ার উপর তখন শুভ বিজয়া তো জানাতেই হয়। যদিও জানিনা যে যখন লিখছি কোথাও আবার কালিপুজোর প্যান্ডেল উদ্বোধন হয়ে গেছে কিনা।

শুভ বিজয়া। সকলে ভাল থাকবেন।
আসছে বছর আবার হবে। হতেই হবে।

(শেষে একটাই অনুরোধ... আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের প্রীতি কে পাড়ার প্রিতি বানিয়ে দেবেন না..., খারাপ লাগে। আফটার-অল দুর্গাপূজো সংক্রান্ত তো.....।)

Monday, 23 October 2023

"আরও একটা বছর ভাইইই...."

প্যান্ডেলে এখন হাতেগোনা কয়েক জন। প্রতিমার সামনের জায়গাটা পরিষ্কার করা হচ্ছে। একাই বসে ছিলাম। শেষ কয়েক বারের মতন একই মন্ডপসজ্জা, ঠাকুর, বার বার দেখছিলাম।

বছরখানেকের রসদ।

অস্ফুটে নিজের মনেই বলে ফেললাম একবার.... "আরও একটা বছর ভাই...", কাকে বললাম জানিনা। নিজেকেই হয়তো। মাতৃপ্রতিমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম কথটা। মনে হল হাসিমুখেই অসুর নিধনকারি মা যেন বলছে... "ওই অপেক্ষাটায়েই তো দুর্গাপূজোর মাহাত্ম্য রে...।"

কথাটা ঠিকই হয়তো। যদি প্রতি মাসে একবার করে দুর্গাপূজো হতো, বা তিন মাসে একবার, এই ভেজালহীন আনন্দটা বোধহয় থাকত না। 
এই পরিমানে জীবনকে উদযাপন করা হতো না।

কাল রাতেই বেশিরভাগ আলো খুলে নিয়েছে লাইটের কাকু। মা-এর সামনে যে এলইডি লাইটগুলো আছে, তার মধ্যে একটা জ্বলছে-নিভছে। বেশ অদ্ভূত লাগছে। যেন এই এতগুলো আনন্দময় দিন আর দশমীর ভাষানের আগে এই সকালটার প্রতিকি রূপ।

 নাকি লাইটগুলোরও মন খারাপ?

কয়েকজন এখন ঠাকুরের হাত থেকে অস্ত্র খুলছে। এর পরে ঠাকুরকে নামানো হবে। তারপরে চলবে বরণ, সিঁদুরখেলা। মাঝে কিছুটা সময়। তারপরেই রব উঠবে... "আসছে বছঅঅর.......।"

সময় শেষ।
এবারের মতন।
যে ক'জন বসে ছিলাম, চেয়ারগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য একজন কাকু এসেছিলেন... বলে গেলেন,

"আবার এক বছর পর, আবার এক বছর পর বসবে...।"

ঠাকুর নামানো শুরু হয়ে গেছে....


Wednesday, 11 October 2023

বাইশ গজের বাইরে...

What do they know of cricket who only cricket know?"

সেই কবে লিখে গেছিলেন CLR James, ত্রিনিদাদীয় মার্কসবাদী সাংবাদিক এবং ক্রিকেট লেখক। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, সেই কথাটা আবারো একবার প্রমাণ করে দিয়ে গেলো যেন। আজ ইন্ডিয়া আফগানিস্তান ম্যাচে একদম "আম"জনতা কিসের জন্য টিভি খুলেছিল বলুন তো? রোহিত শর্মার সেঞ্চুরি দেখার আশায়? জসপ্রিত বুমরাহর অসাধারণ এক স্পেল দেখার জন্য? বিরাট কোহলির হাফ সেঞ্চুরি দেখার জন্য? নাহ, এর কোনোটাই নয়।

"আম"জনতা আজ টিভি খুলেছিলো একটি বদলা দেখার আশায়। নবীন উল হক এবং বিরাট কোহলির শুধুই ব্যাটিং ও বোলিং এর লড়াই দেখার জন্য নয়। সাথে তারা আশায় ছিলো একটু গরম গরম বাক্যবলাপ, বেশ কয়েকটা ম্যাচের তাপমাত্রা বাড়ানো চোখাচুখি ইত্যাদি দেখার আশায়।

তবে এসব আর হলো কী?

এই দিল্লি শহরে খাঁটি আফগানি কাবারের জায়গার অভাব নেই। ইচ্ছা হলেই হাতের সামনে ভালো, মাঝারী, বিভিন্ন মানের আফগানি কাবারের রেস্তোরাঁ। তা ভারত এবং আফগানিস্তানের সম্পর্কও তো বেশ ভালোই বরাবর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "কাবুলিওয়ালা" গল্প থেকে শুরু করে নেতাজের মহানিষ্ক্রমণ, কাবুল কানেকশন সব জায়গায়। হালফিলে IPL-এর কারণে রাশীদ খান ভারতে অন্যতম জনপ্রিয় বিদেশী ক্রিকেটার। আর সব কিছুর উপরে, বিগত IPL-এ ঘটে গিয়েছে সেই বিতর্কিত ঘটনা, নবাগত আফগানি ক্রিকেটার নবীন উল হকের সাথে ভারতীয় ক্রিকেটের পোস্টার বয় বিরাট কোহলির ঝামেলা। 

এইসবের পরেও বলতে হবে যে এই ম্যাচে উত্তেজনা ছিল না?

দিল্লিতে এসে ভারতীয় ক্রিকেটাররা যদিও আফগান কাবাবের খোঁজ করেছিলো কিনা জানা যায়নি, তবে আফগান স্পিনের "জালেবি" এদিন দিল্লির মাঠে অনায়াসেই খেললেন রোহিত, কোহলি, ঈশানরা। টিমগেমে আফগানিস্তানের ২৭২ একদম ফু মেরে চেজ্ করে দিল ভারত। রশিদ খান যতই ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটের অন্যতম দুত হয়ে উঠুন, যতটু যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের শহরে ছেলেরা বোমা ছেড়ে তাকে দেখে বল তুলে নিক, আজকের দিনটা তার ছিল না। আর রোহিতের কথা? অনেকদিনের খচখচানি ছিল ভারতীয় সমর্থকদের অধিনায়কের ফর্ম নিয়ে, যা তিনি দুর করে দিলেন। এমন ইনিংস যদি মহালয়ার দিন ও দেখা যায়...

তবে আজ সব কিছু ছাপিয়ে গেলেন সেই একজন। বিরাট কোহলি। না, আজ ব্যাটে ৫০ করলেও সেটা নিয়ে আর কিইবা বলার। সে তো তিনি প্রায় রোজই করেন।

সব বিতর্ক, ঝামেলা দূরে সরিয়ে রেখে আপন করে নিলেন নবীনকে যখন দেখলেন একজন ক্রিকেটারের সাথে তার শহরের মানুষই অক্রিকেটিয় আচরণ করছে। গ্যালারি এর সামনে হাত নেরে বোঝালেন তাদেরকে, প্রতিপক্ষকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার জন্য। আবার পিচে এ ফিরে আসলেন। নবীন এসে আলিঙ্গন করে গেলেন বিরাটের সাথে। দুজনেই হাসলেন। সেই এক গ্যালারি থেকেই তখন শোনা গেলো হাততলির আওয়াজ।

ক্রিকেট খেলাটাই যে এরাম। সব সময় যুক্তি মানতে চায় না। সব সময় আবেগ মানতে চায় না। সব সময় ভালোবাসা মানতে চায় না।

তবে যখন মানে, এই ক্রিকেট-এর থেকে সুন্দর কিচ্ছু হয়না।

কিছু গল্প বাইশ গজের বাইরেও অনেক গল্প বলে...।

ওইযে শুরু করলাম না যে উক্তিটা দিয়ে CLR JAMES এর, 
"তারা ক্রিকেটের কিইবা বোঝে যারা শুধুই ক্রিকেট বোঝে?"

I Owe You A December

For those, Who still silently cries alone in the bed, when all the switches go off– May you find your light soon, and for foreve...