সেই কবে লিখে গেছিলেন CLR James, ত্রিনিদাদীয় মার্কসবাদী সাংবাদিক এবং ক্রিকেট লেখক। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, সেই কথাটা আবারো একবার প্রমাণ করে দিয়ে গেলো যেন। আজ ইন্ডিয়া আফগানিস্তান ম্যাচে একদম "আম"জনতা কিসের জন্য টিভি খুলেছিল বলুন তো? রোহিত শর্মার সেঞ্চুরি দেখার আশায়? জসপ্রিত বুমরাহর অসাধারণ এক স্পেল দেখার জন্য? বিরাট কোহলির হাফ সেঞ্চুরি দেখার জন্য? নাহ, এর কোনোটাই নয়।
"আম"জনতা আজ টিভি খুলেছিলো একটি বদলা দেখার আশায়। নবীন উল হক এবং বিরাট কোহলির শুধুই ব্যাটিং ও বোলিং এর লড়াই দেখার জন্য নয়। সাথে তারা আশায় ছিলো একটু গরম গরম বাক্যবলাপ, বেশ কয়েকটা ম্যাচের তাপমাত্রা বাড়ানো চোখাচুখি ইত্যাদি দেখার আশায়।
তবে এসব আর হলো কী?
এই দিল্লি শহরে খাঁটি আফগানি কাবারের জায়গার অভাব নেই। ইচ্ছা হলেই হাতের সামনে ভালো, মাঝারী, বিভিন্ন মানের আফগানি কাবারের রেস্তোরাঁ। তা ভারত এবং আফগানিস্তানের সম্পর্কও তো বেশ ভালোই বরাবর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "কাবুলিওয়ালা" গল্প থেকে শুরু করে নেতাজের মহানিষ্ক্রমণ, কাবুল কানেকশন সব জায়গায়। হালফিলে IPL-এর কারণে রাশীদ খান ভারতে অন্যতম জনপ্রিয় বিদেশী ক্রিকেটার। আর সব কিছুর উপরে, বিগত IPL-এ ঘটে গিয়েছে সেই বিতর্কিত ঘটনা, নবাগত আফগানি ক্রিকেটার নবীন উল হকের সাথে ভারতীয় ক্রিকেটের পোস্টার বয় বিরাট কোহলির ঝামেলা।
এইসবের পরেও বলতে হবে যে এই ম্যাচে উত্তেজনা ছিল না?
দিল্লিতে এসে ভারতীয় ক্রিকেটাররা যদিও আফগান কাবাবের খোঁজ করেছিলো কিনা জানা যায়নি, তবে আফগান স্পিনের "জালেবি" এদিন দিল্লির মাঠে অনায়াসেই খেললেন রোহিত, কোহলি, ঈশানরা। টিমগেমে আফগানিস্তানের ২৭২ একদম ফু মেরে চেজ্ করে দিল ভারত। রশিদ খান যতই ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটের অন্যতম দুত হয়ে উঠুন, যতটু যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের শহরে ছেলেরা বোমা ছেড়ে তাকে দেখে বল তুলে নিক, আজকের দিনটা তার ছিল না। আর রোহিতের কথা? অনেকদিনের খচখচানি ছিল ভারতীয় সমর্থকদের অধিনায়কের ফর্ম নিয়ে, যা তিনি দুর করে দিলেন। এমন ইনিংস যদি মহালয়ার দিন ও দেখা যায়...
তবে আজ সব কিছু ছাপিয়ে গেলেন সেই একজন। বিরাট কোহলি। না, আজ ব্যাটে ৫০ করলেও সেটা নিয়ে আর কিইবা বলার। সে তো তিনি প্রায় রোজই করেন।
সব বিতর্ক, ঝামেলা দূরে সরিয়ে রেখে আপন করে নিলেন নবীনকে যখন দেখলেন একজন ক্রিকেটারের সাথে তার শহরের মানুষই অক্রিকেটিয় আচরণ করছে। গ্যালারি এর সামনে হাত নেরে বোঝালেন তাদেরকে, প্রতিপক্ষকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার জন্য। আবার পিচে এ ফিরে আসলেন। নবীন এসে আলিঙ্গন করে গেলেন বিরাটের সাথে। দুজনেই হাসলেন। সেই এক গ্যালারি থেকেই তখন শোনা গেলো হাততলির আওয়াজ।
ক্রিকেট খেলাটাই যে এরাম। সব সময় যুক্তি মানতে চায় না। সব সময় আবেগ মানতে চায় না। সব সময় ভালোবাসা মানতে চায় না।
তবে যখন মানে, এই ক্রিকেট-এর থেকে সুন্দর কিচ্ছু হয়না।
কিছু গল্প বাইশ গজের বাইরেও অনেক গল্প বলে...।
ওইযে শুরু করলাম না যে উক্তিটা দিয়ে CLR JAMES এর,
"তারা ক্রিকেটের কিইবা বোঝে যারা শুধুই ক্রিকেট বোঝে?"
No comments:
Post a Comment