তবে এত্ত তাড়াতাড়ি কেন? ধুউউউর!
গঙ্গাবক্ষে প্রতিমা নিরঞ্জন হতেই ঘাটে রব উঠল, "বল দুগ্গা মাই কি", "আসছে বছর আবার হবে" ইত্যাদি, বাঙালির চিরকালিন স্লোগান।
এবং তারপরেই শুভ বিজয়া জানানোর পালা। বড়দের প্রনাম সমেত। আর সাথে একটা ছোট্ট আপডেট সোশ্যাল মিডিয়ায়- "সবাইকে শুভ বিজয়ার আন্তরিক প্রীতি শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
(শুভ আর শুভেচ্ছা একই কথা দুবার কেন বলে আজও বুঝলাম না।)
লক্ষ্যনীয় বিষয় আমাদের জেনারেশনের বিজয়া ব্যাপারটা নিয়ে মাথাব্যথা কমে যাচ্ছে। সেটা আগের বছরের থেকে কম পোস্ট করাই হোক বা ফেসবুক ইন্সটায়ে কম হইচই। এই কারনেই লক্ষ্যনীয় শব্দটা ব্যাবহার করলাম কারন এই একই জেনারেশন মহালয়া থেকে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে যাচ্ছে।
বিজয়ার পরের দিন চেনা এক মিষ্টির দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, এক পাড়ার কাকু জিজ্ঞেস করলেন দোকানদার কে যে বিজয়ার ব্যাবসা কেমন হল। তা দোকানদার হতাশ ভাবে মাথা নাড়ানোয় বললেন "তোদের তো ভাল হলেও খারাপই বলিস।" তা দোকানদার ভদ্রলোকটি তখন প্রত্যুত্তরে বললেন যে করোনার পর থেকে বিজয়ার আলাদা তেমন কোনো বিক্রিই নেই। লোকে লোকের বাড়িতে যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছে। সব ওই মেসেজে...।
বাড়ি ফিরতে ফিরতে তাই ভাবছিলাম বাবার শোনানো তাদের সময়ের বিজয়ার গল্প। কিভাবে তারা বন্ধুরা পাড়ার একের পর এক বাড়িতে ঢুকে পরে প্রনাম সেরেই পাত পেড়ে খেতে বসে যেতেন। এবং সব বাড়িতে আয়োজন করাই থাকত।
এসব আমাদের জেনারেশনে ভাবাও যায় না...। সবাই ইন্ট্রোভার্ট না?
আরও শুনতাম বিজয়ার পোস্টকার্ডের ব্যাপারে। দূরে থাকা আত্মীয়স্বজন, বন্ধুদের জন্য থাকত সেই চিঠি। কুশল বিনিময়, বিজয়ার শুভেচ্ছা থেকে ঘরে ফেরার ডাক, সেই চিঠিতে সবই থাকত। কালের নিয়মে চিঠির সাথে হারিয়ে গেছে সেই পোস্টকার্ডও...।
ভয় লাগে যে প্রানের উৎসবের মধুরয়েন সমাপ্তিটাও না আস্তে আস্তে মুছে যায়.....
বিজয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় যতই থাকুক, লেখাটা যখন বিজয়ার উপর তখন শুভ বিজয়া তো জানাতেই হয়। যদিও জানিনা যে যখন লিখছি কোথাও আবার কালিপুজোর প্যান্ডেল উদ্বোধন হয়ে গেছে কিনা।
শুভ বিজয়া। সকলে ভাল থাকবেন।
আসছে বছর আবার হবে। হতেই হবে।
(শেষে একটাই অনুরোধ... আন্তরিক প্রীতি, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের প্রীতি কে পাড়ার প্রিতি বানিয়ে দেবেন না..., খারাপ লাগে। আফটার-অল দুর্গাপূজো সংক্রান্ত তো.....।)
No comments:
Post a Comment