বেগার খাটুনি যে একটা আর্ট ফর্ম এবং আসলে তা বেগার নয়... লুকিয়ে থাকা ধান্দাবাজির লাইসেন্স- আমায় এই কলেজ লাইফের বিভিন্ন ঘটনাক্রম শিখিয়ে দিয়েছে! সময় বুঝে, সুযোগ বুঝে, কাছের মানুষ কি করে পাল্টি খেয়ে নেয়, সেটাও শিখছি! DSLR দিয়ে আকাশে ওড়া কাকের ছবি তোলা যে অবশ্যি উচিত, তাও আমায় কলেজ লাইফ শিখিয়েছে। মাথায় রাগ সর্বোচ্চ স্তরে উঠে গেলেও, মাথা ঠান্ডা রেখে হাসি মুখে ন্যাকামি মারতে হয় সহপাঠি হোক বা সিনিয়রের সাথে, শিখছি তাও!
ভরপেট খেয়ে এসে, ক্লাস না থাকায় কলেজ ঢুকেই চা খেলে শরীর কেমন থাকে, জানতে পারছি কলেজে এসে। সেই চায়ের ঠেকে দিল্লি থেকে নব-অন্ন, সবার সমালোচনা করা যায়, অথচ কায়দা মতো কাজের সময় "পোতিবাদ" ভুলে কলার তোলা "যায় আসেনা" ভাব দেখতে হয়, তাও শিখছি! 'চাটুকারিতা'-যে একটা মহান ধর্ম, এবং তার মাহাত্ম্য বেগার খাটুনির থেকেও অনেকাংশে বেশি, দিন বয়ে যাওয়ার সাথে, তাও শিখছি (Prosthetics use করায়ে মানে ওই মুখে আজ এক, কাল অন্য- এই ব্যাপারে বাঙালি যুব সম্প্রদায় এতো উন্নত, তা bollywood- এর director গণের অবিলম্বে জানা উচিত)!
আরেকটা হেব্বি জিনিস শিখেছি আমি কলেজে। এটা না বললে লেখাটাই ব্যর্থ! সেটা হচ্ছে, রাজনীতি থেকে বাঁচতে কি ভাবে রাজনীতি করতে হয়। এ এক আলাদাই clash of clans startegy মার্কা গেম ভাইপো। খেলে মজা আছে! আর না খেলতে চাইলে? ওই back to basics... "নিজেরটা বুঝে নাও, কচি করে সব ম্যনেজ করে নাও!"
এটাই! চলুক, এভবেই...
শেষ করি কিছু বাজে কথা দিয়ে। হ্যাঁ, আগেরগুলো তো বস্ ভালো, স্বাভাবিক কথা... এরকমই জীবন। আমার খারাপ কথা একটা বইয়ের ব্যাপারে, স্মরণজিত চক্রবর্তীর লেখা "ঝাল লজেন"। ফেলে আসা কলকাতা, মফস্বলের, আর জীবনের গল্পে সাজানো এক বই। কলেজের ছদ্মবেশী toxicity মাখা দিন শেষে, ভিড় মেট্রো বা ট্রেনে আমার খোলা জানালার হাওয়া ছিল এই বইটা। খুব কৃপন ভাবে পড়লেও দুদিন আগে শেষ হয়ে গেল বইটা! কষ্ট হয়েছিল। প্রায়শঃই হয়।
মিথ্যার শহরে, ওই কষ্ট আর ক্ষনিকের ম্যজিকের পাওয়া ঝাল লজেন্সগুলোই সত্যি। বাকি সব, এই লেখা, আর জীবনের মতোই "ভাওতা"!!
No comments:
Post a Comment