Tuesday, 30 June 2026

সেদিন বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল না



"Love is seldom a beginning or an ending.
More often, it is a quiet continuation."


উৎসর্গ,

যারা আজও কোনো স্টেশন,
কোনো বিকেল, কিংবা কোনো ঋতুর কাছে
নিজেদের একটুখানি অংশ রেখে এসেছে...
তাদের জন্য।



"Awkward হয়ে যাচ্ছে না, বিষয়টা একটু?"

আগর‍পাড়া স্টেশন এই মুহূর্তে বৃষ্টিতে বলা চলে ভেসে যাচ্ছে। আধ ঘন্টার উপর সময় পেরিয়ে গেলেও, বৃষ্টি থামার কোনো চিহ্ন নেই। এসবের মাঝেই, বাইরের সমস্ত আওয়াজ ছাপিয়ে, ত্রিশানের দিকে তাকিয়ে প্রশ্নটা ছুড়ে দেয় অন্তরা।

"Awkwardness'টা আছে। অস্বীকার করব না। তবে যতোটা হওয়ার কথা, সেই তুলনায় পরিমানে বেশ অনেকটাই কম। হয়তো পাঁচটা বছর অনেকটাই সময়... তাই।"

"পাঁচ বছরে বদলে গেছি বলছিস?"

"না, না! এতো সহজে কাউকে জাজ্ করার মতো ক্ষমতা এখনো তৈরি হয়নি। তবে দেখ, চারিদিকে কিন্তু বদলের ছোঁয়া। সরকার বদলালো, স্টেশনে হকারদের দোকানগুলো বদলের ঠেলায় উধাও হলো। এতো কিছু যেখানে বদল হচ্ছে, সেখানে মানুষ বদলাবে না?"

"হুম। তোর বদলটাও বেশ চোখে পড়ছে কিন্তু ত্রিশান।"

"বলছিস? আচ্ছা, ছ্যাবলামোটা কি কমেছে নাকি আগের মতোই আছে, রে?"

অন্তরা হেসে ফেলে। ত্রিশান একদৃষ্টিতে সেই হাসির দিকে চেয়ে থাকে। চোখ ফেরাতে পারে না। সে জানে, এই হাসিটা বড্ড মায়াময়। একবার এই মায়ার জালে জড়িয়ে গেলে, ফের ফিরে আসা খুব কঠিন। এতো বছরে, সে কি আদৌ পেরেছে ফিরতে?
 
"এখনো ক্রিকেট নিয়ে পাগলামোটা আছে তোর? সেই একদিন তোর খেলা দেখেছিলাম করিডোরে দাঁড়িয়ে, কি দারুণ ব্যাট করেছিলিস। এখন খেলিস?"

কথা এগোনোর জন্য হন্যে হয় স্মৃতি রোমান্থন করে চলে অন্তরা। সে ভেবেছিল হয়তো খুব চেষ্টা করে তবে সেই পুরোনো কথাগুলো মনে করতে পারবে, অথচ কি অনায়াসেই সব মনে পড়ে যাচ্ছে! এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না...

"নাঃ! এখন আর খেলা হয় না। আসলে কি জানিস, ক্রিকেট আমি চিরকাল ভালোবাসলেও, খেলতে কোনোদিনই তেমন ভালো পারতাম না। সেদিন রৌনক জোর করায় খেলতে গেছিলাম। আর মাঠে নেমেই চোখে পড়লো তুই খেলা দেখতে এসেছিস আরো তোর বন্ধুদের সাথে। কি ভাবে জানি না, তবে যেই ছেলেটা ব্যাট ধরলেই সবাই টোন কাটতো 'দুই বলের খরিদ্দার' বলে, তার ব্যাটে ওইদিন সবকটা বল বাউন্ডারি পার করছিল। আমার জীবনের সেরা ইনিংস বলতে পারিস ওটাকে।"

এক টানা বলে থামে ত্রিশান। অন্তরা কিছু উত্তর দিল না। শুধু মৃদু হাসলো। ত্রিশানের মনে হলো, বাইরে বৃষ্টি পড়ার বেগ হঠাৎ কি একটু বেড়ে গেল?


বাড়ি ফেরার পথে আগরপাড়া স্টেশনের উত্তরদিকে অবস্থিত ছোট্ট গুমটি চায়ের দোকানটাতে ত্রিশান প্রত্যেক দিন বসবেই। সে একাই আসে। একটা বেকারী বিস্কুট ও এক ভাড় চা আয়েশ করে খেয়ে, প্রায় দশ মিনিট চুপচাপ বসে থাকার পরে ভাড়া মিটিয়ে দোকান ছেড়ে ওঠে। কেউ এই ব্যাপারে জিগ্যেস করলে বলে, সারাদিনে এটাই ওর একমাত্র 'মি টাইম'। নিজের জন্য দশটা মিনিট তো খরচ করাই যায়।

আজও সেরকমই রুটিন মাফিক ব্যাগটা বেঞ্চে রেখে চা'টা বলতে যাবে কি, বিনা মেঘে সত্যিই বজ্রপাত। আকাশ ভেঙ্গে হঠাৎ অঝোরে বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো। রবিবার স্টেশনে লোকজন এমনিই কম থাকে, আর তখন ভর দুপুর বেলা। প্ল্যাটফর্মও নিমেষে ফাঁকা হয়ে গেছিল। আর সেই সময়, বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ওড়না দিয়ে মাথা ঢেকে, কাউকে একটা ছুটতে ছুটতে স্টেশনে ঢুকতে দেখে ত্রিশান। চিনতে কয়েক সেকেন্ডও সময় লাগেনি ত্রিশানের। জুন ২০২১ থেকে জুন ২০২৬। ঠিক পাঁচ বছর। পাঁচ বছর পরে, অন্তরাকে আবার দেখল সে।


"তোর এখোনো বৃষ্টি ভালো লাগে?"

নিস্তব্ধতা কাটিয়ে ত্রিশানই ফের কথা এগিয়ে নিয়ে যায়। অন্তরা হাসে।

"বাবাঃ! তুই মনে রেখেছিস সেটা আবার!"

"মেমোরিটা আমার খারাপ না। আর এটুকু চাইলেই মনে রাখা যায়, যেখানে আমাদের বন্ধুত্বটাই শুরু হয়েছিল বৃষ্টির প্রতি ভালোবাসা থেকে।

"মনে আছে তোর?"

"অবশ্যই। সেদিন বৃষ্টিতে ক্লাসে সাত জন এসেছিল। RK ম্যাডামকে আমরা পড়াতে দিলাম না। ম্যামও পাল্টা শর্ত দিলেন। যারা ক্লাসে আছে, তাদের সবাইকে গান বা কবিতা যে কোনো একটা কিছু পারফর্ম করতে হবে। তুই একটা রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইলি আর আমি নিজের লেখা একটা বৃষ্টির কবিতা বললাম। তারপর ক্লাস শেষে তুই জানাতে আসলি কবিতাটা তোর কতো ভালো লেগেছিল। সেই শুরু।"

''আর শেষটাও সেই বৃষ্টিতেই..."

কথাটা শেষ করে না অন্তরা। চুপ করে যায়। সে ভেবেছিল এই বিষয় কিছু বলবে না কোনো মতেই, তবু নিজেকে আটকে রাখতে পারল না। বিদ্যুৎের মতো শব্দগুলো ছিটকে বেরিয়ে যায় তার মুখ থেকে...


নীরবতার ওজন ঠিক কতো হয়? তা কি বর্ষার প্রথম বৃষ্টি আনা মেঘেদের থেকেও বেশি? সেই নীরবতা কি মন খারাপের মতো নিঃশব্দে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়? নাকি অভিমানের বাঁধ ভেঙে হওয়া অনিবার্য বৃষ্টির মতো, সশব্দে আসে? উত্তর খুঁজে চলে একাকী রেলওয়ে স্টেশন। উত্তর খুঁজে চলে, অন্তরা ও ত্রিশান।

"ত্রিশান, এতো বছর কেটে গেল তবু আমি জানি না, সেদিন তুই আমায় ডেকেও কেন আসলি না! সে দিন কলেজের শেষ দিন ছিল। তুই জানতিস, সেদিনের পর আর দেখা হতো না আমাদের। তাও ওরকম কেন করলি তুই? ওই প্রবল বৃষ্টিতেও আমি তোর জন্য কতক্ষণ অপেক্ষা করেছিলাম..."

অন্তরা উত্তেজিত হয়নি, তবে গলার স্বর বেশ উঁচুরই দিকে। আসলে এই কথাগুলোয় রাগ হয়তো থাকতে পারে, তবে তার থেকে অনেক বেশি আছে, বহু বছর ধরে জমে থাকা কষ্ট। আছে, এক ধরনের মরচে ধরে যাওয়া অভিমান।

বাইরে, এখনো অঝোরে বৃষ্টি পড়ে যাচ্ছে।

"আমি জানি তুই আমাকে ক্ষমা করতে পারিসনি সেদিনের জন্য। আসলে... ঠিক কি যে হয়ে গেল সেদিন। এখনো ভাবলে নিজেকে মারতে ইচ্ছা করে।"

"কেন? কি হয়েছিল সেদিন?"

ত্রিশান থমকায়। আমতা আমতা করে অস্পষ্ট ভাবে কিছু বলতে থাকে। অধৈর্য হয় অন্তরা।

"ত্রিশান! আর তোতলাস না প্লিজ! আজকেও আমায় তুই প্রথম দেখেছিস বললি, অথচ কথা বলিসনি। আমিই তোকে দেখে ডাকলাম! তুই তো এখন একটা কলেজের প্রফেসর। ছাত্রছাত্রীদের সাথে কথা বলিস কি করে, রে?"

"তুই জানিস, আমি প্রফেসর এখন?"

অন্তরা মৃদু অস্বস্তিতে পড়ে। নিজেকে সামলিয়েও নেয় দ্রুত।

"হ্যাঁ জানি! কি করে, কি ভাবে– সে সব জিগ্যেস করিস না। বলতে পারবো না অতো। এবার বল তো, সেদিন ঠিক কি হয়েছিল?"

দু সেকেন্ড চুপ করে থাকে ত্রিশান। একটা গভীর শ্বাস নেয়। নিজেকে প্রস্তুত করে বলতে শুরু করে,

"সেই দিন তোকে বলেছিলাম অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর দাঁড়াতে, একটা কথা বলব বলে। বিশ্বাস কর, আমার প্ল্যান একদম ঠিক সেটাই ছিল। তোর মনে আছে কি না জানি না, আমাদের কথা বলার সময় দীপ সেখানে ছিল। তুই যাওয়ার পর ও আমায় একটা খবর দেয়। আর তারপরেই আমি ঠিক করলাম, যাওয়াটা হয়তো ঠিক হবে না..."

"কি খবর?"

"সেদিন সকালে অর্ঘ্য তোকে... প্রোপোজ় করেছিল। তুই সরাসরি না করে দিয়েছিলিস নাকি। এটা শুনেই... আমি আর... মানে... আমার মনে হয়েছিল আমাকেও বোধহয় তুই..."


বৃষ্টির সঙ্গে কি অতীতের কোনো পুরোনো সমঝোতা আছে? কেন মেঘ করলেই ভুলে যাওয়া কারোর কথা খুব করে মনে পড়ে? কেন বৃষ্টির দিনেই এরকম না ভাবতে পারা ঘটনাগুলো ঘটে? কেন মন খারাপ পথ হারানো পোষ্যের মতো বার বার ফিরে আসে? 

ত্রিশানের শেষ কথাগুলো বলার পর থেকে কেউই আর কিছু বলেনি। অন্তরা শুধু শেষ বাক্যটা শুনে কপালে হাত দিয়েছিল। হাতটা এখনো কপালেই।

"সিঙ্গল তুই?"

"...অ্যাঁ?!"

অন্তরার হঠাৎ করা প্রশ্নে বিষম খায় ত্রিশান। একটা কাশিও কেশে নিল। দ্বিতীয়বার কাশতে গিয়ে কোনো রকমে আটকালো দমকটা।

"উফফ্! ত্রিশান আমি তোকে কোনো রকেট সায়েন্সের প্রশ্ন করিনি যে বিষম খেয়ে একসা হবি। তুই কি সিঙ্গল?"

"উম্.. মানে, হ্যাঁ। আমি সিঙ্গল।"

"ঠিকই ধরেছিলাম। জানতাম তোর দ্বারা ওসব হবে না!"

ত্রিশান উত্তর দিল না। অন্তরার কথা শুনে একটা সিনেমায় নায়কের হেরে যাওয়া মার্কা হাসি ঠোঁটে আনল কেবল।

"এই! মজা করলাম আমি। তোর খারাপ লাগল? সরি রে..."

"না না! খারাপ লাগেনি। ভুল কিছু তো বলিসনি। সত্যিই আমার দ্বারা ওসব ভালোবাসা-টাসা হলো না আর।"

"আমায় ভালোবাসবি?"


জীবন কি কিছু কিছু সময় সিনেমার থেকেও বেশী অকল্পনিয় হয়ে যায়? তখন কি হয়? কেউ কি এসে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক চালিয়ে যায়? এখন তেমন কিছু কেউ কেউ চালাল নাকি?

ত্রিশান যথারীতি কোনো উত্তর খুঁজে পেলো না এই প্রশ্নেরও। তার শুধু মনে হতে থাকে, বৃষ্টিকণাগুলো তাকে অভিবাদন জানাচ্ছে। বাকি সব কিছুই তার আবছা লাগছে। সে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে বটে অন্তরার দিকে, তবে সবই খুব অবিশ্বাস্য ঠেকছে যেন!

এই প্রথমবার যদিও সাহস পায় সরসারি অন্তরার চোখের দিকে তাকানোর। ধীরে ধীরে ধাতস্ত হওয়ার পর খেয়াল করে, অন্তরার চোখের কাজলটা তাকে আরো বড্ড বেশী মায়াবী করে তুলেছে।

অন্তরাই ফের কথা বলে।

"দেখ, আমি চাইলেই বাংলা প্রেমের গল্পের মতো বলতে পারতাম, "আমায় এখনো ভালোবাসিস? কেনো বাসিস?" ইত্যাদি উল্টোপাল্টা কথা। আমিও তোকে ভালোবাসতাম একটা সময়। নিজের থেকেও হয়তো বেশি। তারপর, সেদিন বৃষ্টিতে তুই এলি না। ভালোবাসা অভিমানে বদলে গেল। ভেবেছিলাম, যেদিন তোর সাথে দেখা হবে, হয়তো কথাই বলব না। মুখ ঘুড়িয়ে চলে যাবো। কিন্তু, আজ তোকে দেখা মাত্রই.... বুকের ভেতরটা কেমন উথাল পাতাল করতে লাগল। একদম কলেজের দিনগুলোর মতো। ভাবলাম আমি যখন সিঙ্গল, আর শুনলাম যখন তুইও, একবার চান্স নিয়েই দেখি।
আমি জানতাম যদিও, তোর আজও কিছু বলার ক্ষমতা হবে না!"

অন্তরাকে এক দৃষ্টিতে দেখতে থাকে ত্রিশান। সে একটানা কথা বলে হাঁপিয়ে গেছে। ত্রিশানের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে দম নিচ্ছে।
এতোক্ষণে ত্রিশানের মনে হয়, এই বৃষ্টিতে কেউ সত্যিই বোধহয় ওদের অলক্ষ্যে এসে "রিমঝিম গিরে সাওয়ান' গানটা, ওই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে। কিশোর কুমার'জি কে মনে মনে একবার স্মরণ করে নিয়ে অন্তরাকে ডাকল সে।

অন্তরা তাকালো। তার চোখের কাজল এখন একটু ঘেঁটে গেছে। ত্রিশান যত্ন নিয়ে মুছে দিতে যায় তা। অন্তরা চোখ বন্ধ করে নেয়।

বাইরে বৃষ্টি আরো একটু জোরে হলো কি?


"তোর বাংলা প্রেমের গল্প ভালো না লাগলেও গল্পের মতো করেই বলি, আমি কিন্তু সত্যিই তোকে এতোদিন ধরে ভালোবাসতাম।"

"আর এখন? এখন বাসবি না?"

"সেই কলেজের প্রথম দিকে আমায় বলেছিলি তোর বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে কতো... আমি ভেবেছিলাম লাস্ট দিন আমরা একসাথে ভিজব। সেদিন হলো না যখন, আজ ভিজবি?"

"হ্যাঁ? কিন্তু তোর তো কোল্ড এলার্জি? একদম না!"

"আরে! এটাও মনে রেখেছিস? যাকগে। একদিন ভিজলে কিচ্ছু হবে না। আয় আয়..."

অন্তরা কে হাত ধরে শেডের বাইরে বের করে ত্রিশান।


তিরিশ ছুঁই ছুঁই দুই যুবক- যুবতী এই মুহূর্তে হলিউডের ভাষায়, "Are dancing in the rain"। আগর‍পাড়া স্টেশনে উপস্থিত হাতে গোনা কয়েক জন মানুষ সেই দৃশ্য দেখে হতবাক। কেউ ঠোঁট উল্টে সমাজের দূরবস্থা নিয়ে ফেসবুকে কবিতা লিখবে বলে তৈরি হচ্ছে। তো, ডেটিং কালচারে অভ্যস্ত অল্পবয়সী কিছুজন ভালোবাসার এমন রূপ প্রথমবার দেখে, "God, me when" বলে চোখের জল মুছছে।

কিন্তু ওদের মধ্যে থেকে কেউ জানবে না, এই প্রেম কাহিনীর বয়স কতো পুরোনো। কত রাগ-অভিমান শেষে, বৃষ্টি তাদের আজ মিলিয়েছে। কেউ জানবে না, ভালোবাসার এই পর্যায় পৌঁছানোর জন্য ঠিক কতোখানি কষ্ট পেতে হয়। কতোখানি ভালোবাসতে হয়।


তুমুল উচ্ছাসে বৃষ্টিতে ভিজতে মগ্ন যখন ত্রিশান, অন্তরা বর্ষার আওয়াজ ছাপিয়ে প্রশ্ন করে,
"কি রে? বললি না, তো? ভালোবাসাবি আমায়? এখন?"

তাতাধিক গলার জোরে ত্রিশানও বারিধারাকে হারিয়ে উত্তর দেয়,

"After all this time?
Always. Alwaysss!
এতোদিনেও বুঝলি না? আজীবন বাসব!"


আগরপাড়া স্টেশনে অবাধ্য বৃষ্টিটা তখনো থামেনি।।


(বর্ষায় এক ভাড় চা ও ভালোবাসার অনুভূতি বাদে, এই গল্পের সব কিছুই কাল্পনিক)


সেদিন বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল না

"Love is seldom a beginning or an ending. More often, it is a quiet continuation." উৎসর্গ , যারা আজও কোনো স্টেশন, কোনো...