মাঝেমাঝে মনে হয়ে যে বিজ্ঞানীদের এই একটা রাতের ব্যাপারে একটু গবেষণা করা উচিত। শুধু এক "যেয়ো না নবমী নিশি" গান শুনে গোটা একটা জাতির মন খারাপ হয়ে যায়, এমন কিছু পৃথিবীতে আর কোথাও হয় বলে জানেন? হতে পারে হয়তো, আমি জানি না। হলেও মনে হয় না, তা বাঙালির আবেগের বিন্দুমাত্রও ছুঁতে পারে।
রাত যত বাড়ে, এই কষ্টটাও বাড়তে থাকে। কষ্টটার আবার একটা সময়সীমা আছে। এটার স্থায়িত্ব ঠিক যতক্ষণ না মা কে বরণ করা হচ্ছে, ততক্ষণ! অবাক করার ব্যাপার এটাই যে একবার প্রতিমা নামানো হয়ে গেলে ওসব দুঃখ, কষ্ট, বেমালুম উবে যায়। তখন শুধুই ঠকুর ভাসান ও আসছে বছরের চিন্তা।
তবে মধ্যবর্তী ওই সময়টায় গলার কাছে কেমন যেন কিছু একটা দলা পাকিয়ে থাকার মত মনে হতে থাকে। সাথে দোসর হিসাবে থাকে প্যান্ডেলের বক্সে বাজতে থাকা পুরোনো দিনের, স্বর্ণযুগের সব বাছাই করা দুঃখের গান।
সব জেনে বুঝে কন্সপিরেসি করা কি না কে জানে!
বলছি না, একটা কমপ্লিট রিসার্চের খুব, খুব প্রয়োজন।
যাইহোক, প্যান্ডেলের কথা উঠলোই যখন বলে রাখি, এই লেখাটা কিন্তু আমি একা একা মন্ডপে, অর্থাৎ প্যান্ডেলে বসেই লিখছি। একা বলাটা অবশ্য ভুল হলো। নবমী রাতের দুঃখ, কষ্ট কমাতে এখানে এখন মাতৃপ্রতিমার সামনে আট থেকে আশি, সকলে ঢাকের বোলে নাচছে।
সময় ফুরানোর আগে মন ভালো করার ছোটখাটো চেষ্টা আর কি। দুর্গা মা ও বেশ হাসিমুখেই দেখছেন আমাদের সকলকে।
তিনিও বোধহয় চলে যাওয়ার আগে শেষ আনন্দটুকু চেটেপুটে উপভোগ করতে চান, একদম ঠিক আমাদেরই মতন!
যাকগে, কি আর করা যাবে। বোধহয় এই সব টুকটাক মন খারাপ, হঠাত হওয়া ভালবাসা, এগুলোর মাঝেই, দুর্গাপুজোর মাহাত্ম্যটা লুকিয়ে থাকে।
যাই, গিয়ে একবার সাউন্ড কাকু কে বলে আসি "যেয়ো না নবমী নিশি" বাজানোর জন্য।
সত্যি সত্যিই যদি চলে না যেত, কি ভালই না হতো; নাহঃ?